আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং

“একজন সাহারা খাতুন”- মারুফা আক্তার পপি!

এমরান হোসেন,জামালপুর প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি সদ্য প্রয়াত সাহারা খাতুন কে স্মরণ করতে গিয়ে সাহিত্যের ভাষায় বলেন,এপার আর ওপার কতো কতো দুরত্ব, কোনদিন কোন কিছুর বিনিময়েই এ দুরত্ব,এই শূন্যতা পুরন হবার নয়।ওপরে না ফেরার পথে চলে গেলেন সাহারা আপা।বনানীতে মায়ের কবরে তাঁর দাফন হল।জীবনে সুখের চেয়ে ত্যাগ তিতিক্ষা, স্বৈরাচারের রক্ত চক্ষু,পুলিশের লাঠিসোটার সাথেই জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে তাঁর,অবশেষে আল্লাহর ডাকে বৃহস্পতিবার রাতে ওপারে চলে গেলেন,যেন আশ্রয় নিলেন চির শান্তির ঠিকানা মায়েরই বুকে।এডভোকেট সাহারা খাতুন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠক ছিলেন,ঢাকার তেজগাও-ফার্মগেট এলাকার সম্ভ্রান্ত স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ বিলাসের কথা ভাবেননি।নিজে বাইসাইকেল চড়ে ঘুরে ঘুরে দলকে সংগঠিত করেছেন।তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ শুধুমাত্র একজন নেতা হারালোনা,দেশ হারালো একজন নির্মোহ দেশপ্রেমিক কর্মীবান্ধব একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত ভাবে আমাদের মতো কর্মীদের মাথার উপর থেকে চিরতরে হারিয়ে গেল,এক বটবৃক্ষসম অভিভাবকের স্নেহের ছায়া।এখন থেকে আদর করে কেউ জিঙ্গেস করবেনা এই পপি কেমন আছো?পাশের জনের দিকে তাকিয়ে আমাকে দেখিয়ে মায়াভরা কন্ঠে কেউ আর বলবেনা পপি আমাকে খোঁজে বের করেছিলো। ২১ আগষ্টের নির্মম গ্রেনেড হানলার পর ঢাকা শহরটা যেন বিভীষিকাময় ণগরীতে পরিনত হলো।খালেদা জিয়া অলিখিত কারফিউ জারি করলেন,তারেক জিয়ার নির্দেশে সরকারি হাসপাতাল আওয়ামীলীগ এর নেতা কর্মীদের ঠিক ঠাক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন না।এরকম পরিস্থিতিতে সাহারা আপার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলোনা।আমি আপাকে(দেশরত্ন শেখ হাসিনা)একনজর দেখার জন্য সুধাসদনে গেলাম। ম্রিয়মাণ কেমন যেন ক্লান্ত দেখাচ্ছে আপাকে যা আমি কোনদিন দেখিনি।আপা বিছানায় আধা শোয়া অবস্থায়,পাশে ছোট আপা(রেহেনা)ও গিনি আপাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।দুজনে নেতাকর্মীদের চিকিৎসা, ভর্তি,ডাক্তার, রক্ত এসব নিয়েই কথা বলছিলেন এবং ফোনে ফোনে ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছিলেন।আমার দিকে তাকিয়ে আপা বলেন, পপি সাহারা আপার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছেনা,একটু হাসপাতাল গুলোতে খোঁজ নাও,ছোট আপাকে বললেন আমাকে কিছু টাকা দিতে আহতদের ঔষধ পথ্য কিনে দিতে।আমি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে শান্তি নগরের দিকে গেলাম। আল বারাকা, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালেও খোঁজলাম অবশেষে পাইওনিয়ার নামক একটি হাসপাতালে সাহারা আপাকে পেলাম সেন্সলেস অবস্থায়। কথা হলোনা শুধু দেখলাম।ডাক্তারের সাথে কথা বলে আপাকে সবকিছু জানালাম।সেদিন আমরা আইভি আপাকে হারালেও সাহারা আপা সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছিলেন।তারপর থেকে দেখা হলে সালাম দিলে উত্তরের সাথে সাথে এ কথাও জড়িয়ে থাকতো পপি আমাকে খোঁজে পেয়েছিল।আপা আজ আপনাকে হারানোর কষ্ট ভীষন পীড়া দিচ্ছে।মনে হচ্ছে আবার যদি আপনাকে তেমন করে খোঁজে পেতাম।কিন্তু না আজ আমরা সত্যি সত্যি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছি।পরপারে মায়ের কাছে ভালো থাকবেন।আল্লাহপাক আপনাকে বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম স্থান জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ