আজ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং

মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সাধারণভাবে জীবনযাপন করে গেছেন সাবেক কমান্ডার শরীয়ত উল্ল্যাহ্ বাঙ্গালী।

দেওয়ান ইকবাল, দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি:

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘিরে স্মৃতি স্বরুপ অনেক কিছুই হতে দেখেছে এদেশের মানুষ। কোথাও জাদুঘরের নামে আবার কোথাও বা প্রাতিষ্ঠানিক নামে গড়ে উঠেছে স্মৃতিফলক গুলো। হবেই বা না কেন? তাদের জন্যেই তো পেয়েছি আমরা এই স্বাধীন দেশ। তাহলে তাদের নামে অক্ষায়িত থাকা নামগুলো এদেশের গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্যেও শিক্ষা হতে পারে।

তেমনি এক মুক্তিযোদ্ধা ফেনীর দাগনভূঞায় শায়িত আছেন। যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার হয়েও সাধারণভাবে জীবনযাপন করে গেছেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।

বলছিলাম, দাগনভূঞা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শরীয়ত উল্যাহ্ বাঙ্গালীর কথা। উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুরের হাসানগণিপুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। বাড়িতে ভাঙা একটি টিনের ঘর। যেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো চাহিদাই ছিল না তার। হয়তো বীর মুক্তিযোদ্ধারা এমনি হয়। উপজেলায় প্রশাসনিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানেই দেখা যেতো এই সরল মানুষটিকে। তার বক্তব্যে যেন, ১৯৭১ সালের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ফুটে ওঠতো। যুদ্ধের সময় যেমন চিন্তা করেছেন এদেশকে এবং এদেশের মানুষকে রক্ষা করার কথা তেমনি যুদ্ধের পরও তিনি একবারের জন্যেও নিজের কথা কিছুক্ষণের জন্য ভেবেছিলেন বলে বলা বাহুল্য। শুধু রেখে গেছেন স্মৃতিজড়িত কিছু কথা আর কাজ। অবদান রেখে গেছেন বিদ্যালয়, মসজিদ এবং অসংখ্য সামাজিক কাজে।

সাদাসিধে চলা এই মানুষটি মৃত্যুকালে নিজের, স্ত্রী, পুত্র এবং মেয়েদের জন্য তেমন কিছুই করে যেতে পারেননি। নাম আর ক্ষমতার অপব্যবহারে তিনি কখনো নিজের কথা ভাবেননি। মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত দেশ এবং দেশের মানুষের সম্পদ রক্ষা করার কথা চিন্তা করে সত্যিই তিনি একজন বীর বাঙ্গালীর পরিচয় দিয়েছেন। যা ফেনীর জেলার মানুষের কাছে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীয়ত উল্ল্যাহ্ বাঙ্গালী গত শুক্রবার বেলা ৪টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। শনিবার বেলা সাড়ে ১০ টায় হাসানগণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জানাজা শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন সহ উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক জানিয়েছেন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ