আজ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং

লাগামহীন কর্মঘণ্টা বিপন্ন মানবতা!

দেওয়ান মো. ইমরান:

একটি মানবিক বিজ্ঞানমনস্ক রাষ্ট্র আমরা কেন চাই!
লাগামহীন কর্মঘণ্টা বিপন্ন মানবতা!

জীবন জীবিকার তাগিদে প্রত্যক মানুষ কে নানান কাজ বা পেশা বেছে নিতে হয়। কেউ বা বাদ্য হয়ে কোন পেশায় যায়।
প্রত্যক মানুষের ক্ষুদা আছে, পরিবার আছে,সংসার আছে,আপন মানুষ আছে,নানান হতাশা,চিন্তা,ভবিষ্যৎ ইত্যাদি মাথায় নিয়ে তাকে চলতে হয়। বিবেকবান মানুষ বাদ্য হয়ে অনিচ্ছা থাকা সত্বেও নানান পেশায় জড়িয়ে যায়।
প্রতিটি মানুষের একটা ব্যক্তিগত জীবন, একটা পারিবারিক জীবন,একটা সামাজিক জীবন, একটা ধর্মীয় জীবন আছে।
সৃষ্টির নিয়মে ২৪ ঘন্টা মিলে একটা দিন রাত হিসেব করতে হয়!
যেই লোকটা ,একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যংক,বা অন্যকোন প্রাইভেট কোম্পানি,বা একটা রেষ্টুরেন্ট,একটা মুদি দোকানে গড়ে ১৪-১৫ ঘন্টা কাজ করে সে মানুষটার বাস্তব জীবন টা কেমন হতে পারে রাষ্ট্র কি কখনো ভেবে দেখেছে?
মানবাধিকার সংস্থাগুলো কি কখনো এদের পক্ষে দাড়িয়েছে?
যেই লোকটা ১২ ঘন্টা কাজ করে তাকে আরো দুইঘন্টা এর পেছনে আশা যাওয়ার বা প্রস্তুতির জন্য আরো ব্যয় করতে হয়।
দেশের পরিসংখ্যনে দেখা যায় জনসংখ্যার অর্ধেকের ও বেশি লোক দেশের এই ধরনের পেশায় যুক্ত।
একরকম বাধ্য হয়ে ই জনসংখ্যার বিশাল এই অংশ টা এমন চাপা কষ্ট নিয়ে দিনের পর দিন এসব পেশায় যুক্ত থাকছে।
১৪ (কারো কারো ক্ষেত্রে আরো অনেক বেশি) ঘন্টা তার জীবিকার জন্য চলে গেলে বাকি থাকে ১০ ঘন্টা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রাম এবং ঘুমের জন্য চলে যায়। এমন অনেক কর্মী আছেন,যারা সাপ্তাহিক, মাসিক বা বছরে ও একদিন ছুটি পায়না।
কর্মচারীদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিকপক্ষ সেচ্ছাছাড়িভাবে সমস্ত অন্যায় চাপিয়ে দেয়।
এতে মালিক উন্নত হলেও দেশ উন্নত হচ্ছেনা।
বরং একজন মানুষ অকালেই নানান রোগ ব্যধির সম্মুখীন হয়ে তার জীবনী শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। ভেবে দেখুন একজন সরকারি চাকুরীজীবি বা একজন স্কুল শিক্ষক ৪০ বছর কাজ করে ও সুস্থভাবে রিটায়ার্ড করতে পারে, কিন্তু একজন কর্পোরেট চাকরিজীবি ১০-১৫ বছর কাজ করলে ই তার জীবনী শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। বিনিময়ে তার জীবনের সামান্যতম সঞ্চয় ও থাকেনা।
এতটা বৈষম্য নিয়ে একটা রাষ্ট্র সত্যি চলতে পারেনা।
একটা রাষ্ট্র কখনো ই এতটা অমানবিক হতে পারেনা।
যেই লোকটা দিনরাত পরিশ্রম করে পরিবারের ভরনপোষণ করছেন,তার সন্তান ও তো চায়,একদিন তার বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে,একদিন মসজিদে যেতে,কিংবা নিজের মা বাবাকে নিয়ে একদিন ডাক্তারের কাছে যেতে,কিংবা নিজের স্ত্রীকে একটা ঘন্টা সময় দিতে,কিংবা একটু ধর্মীয় জীবন কাজে লাগাতে,সামাজিক কিছু দায় দায়িত্ব কাধে নিতে।
৮০% লোক ই তাদের পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেনা,
যে কারনে পারিবারিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়,সন্তান বখাটে হয়,স্ত্রী পরকিয়ায় জড়ায়,
দিনের পর দিন এভাবে সংসার গুলো ভেংগে যাচ্ছে। দিনের পরদিন ডিভোর্স, বখাটের উৎপাত, খুনোখুনি বেড়েই চলছে।
একজন সরকারি চাকুরীজীবি আট ঘন্টার কাজ,সপ্তাহে দু দিন ছুটি,রিটায়ার্ড প্যনশন,আরো কত কি!
আর বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে একজন সাধারণ শ্রমিক,দিনমজুর,একটা রেষ্টুরেন্ট ওয়েটার রোলারের চাপায় দিনের পর দিন মারা যেতেই থাকবে?
কাউকে ১০০% সুযোগ সুদিবা দিলে অন্য কেউ তো ৫০% ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশা করতে ই পারে!
শ্রমিক কল্যান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কি শ্রমিকদের জন্য একটু ও বর্তায় না?

হে রাষ্ট্র একটু ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করুন।
একটু মানবিক হোন।
একটু আইন প্রয়োগ করুন।
সুস্থ মানুষ গুলোকে আর অসুস্থ করবেন না।
মানুষকে একটু সুন্দরভাবে বাচতে দিন।
একটি ভারসাম্যপূর্ন সমাজ এবং রাষ্ট্র চাই আমরা। আমিও একজন শ্রমিক।

দেশের সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের কল্যানকামী।

আপনাদের ভালোবাসার
দেওয়ান মোঃ ইমরান
নির্বাহী সম্পাদক
সময়ের বাতায়ন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ