আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

প্রিয় নবী (সা.) সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সাহাবাদের নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

ইসলামিক ডেস্ক: বিশ্ব এক বিরল সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। এমন সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর মানুষ শেষবার দেখেছিল প্রায় ২০০ বছর আগে। এ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের চারপাশে থাকবে এক আগুনের বলয়। বিজ্ঞানীরা যাকে ‘রিং অব ফায়ার’ বলে অবিহিত করেছেন।

এ সূর্য গ্রহণ দেখার জন্য অনেকে উৎসব মূখর আমেজ তৈরি করছে। বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি প্রত্যক্ষ করতে প্রস্তুতি চলছে। আমাদের সমাজে মানুষ অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে সূর্যগ্রহন প্রত্যক্ষ করার প্রস্তুতি নেয়।

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সাহাবাদের নিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন, কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এ সময় তাঁর চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেতো। দশম হিজরীতে একবার সূর্যগ্রহণ হয়। এসময় তিনি লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। সম্ভবত এ নামাজ ছিল তাঁর জীবনের সর্বাধিক দীর্ঘ নামাজ। সেই নামাজের প্রত্যেকটি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিলো।

একসময় বিজ্ঞানীরা মহানবী (সা.)এর এ আমল নিয়ে বিদ্রুপ করলো (নাউযুবিল্লাহ)। তারা বললো- এ সময় প্রার্থনার যৌক্তিকতা কী? সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্র পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই!

কিন্তু, বিংশ শতাব্দীতে যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবী (সা.) এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো। আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু’টি কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়ে (Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়।
গ্রহানুপুঞ্জের এইবেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১
সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল। বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, আর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায়। গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়। কিন্তু বৃহদাকার পাথর খন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে? প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিলো। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আজকের বিজ্ঞানীরা বলছে, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ এসময় সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে একই অক্ষ বরাবর থাকে, ফলে এ তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্তরিত হয়। এমন সময় যদি কোন পাথর বেল্ট থেকে নিক্ষিপ্ত হয় তাহলে এই ত্রিশক্তির আকর্ষণের ফলে সেই পাথর প্রচন্ড শক্তিতে পৃথিবীর দিকে আসবে। এ প্রচন্ড শক্তি নিয়ে আসা পাথরটিকে প্রতিহত করা তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে যাব। ফলে পৃথিবীর একমাত্র পরিণতি হবে ধ্বংস।

একজন বিবেকবান মানুষ যদি মহাশূন্যের এ তত্ব জানে, তাহলে তার শঙ্কিত হবারই কথা। এই দৃষ্টিকোন থেকে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মহানবী (সা.) এর সৃষ্টিকূলের জন্য মহান মালিকের কাছে প্রার্থনা করার নিখুঁত বাস্তবতা রয়েছে। মহানবী (সা.) এর এ আমলটি ছিলো যুক্তিসঙ্গত ও একান্ত বিজ্ঞানসম্মত। তাই এটিকে উৎসব না বানিয়ে আল্লাহকে ভয় করে এসময় তার কাছে ক্ষমার আশায় প্রার্থনারত হওয়া অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

আগামী ২৬ ডিসেম্বরের সূর্যগ্রহণটি ঢাকায় শুরু হবে সকাল ৯টা ১মিনিট ১৬ সেকেন্ডে। ১০টা ২৮মিনিট ৯ সেকেন্ডের সময়ে সর্বোচ্চ সূর্যগ্রহণ হবে; ওই সময়েই সূর্য সবচেয়ে বেশি চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। এসময় সূর্যকে একটি অগ্নিবলয়ের মতো দেখাবে। এ সূর্যগ্রহণ সর্বোচ্চ দুপুর ১২টা ৮মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত চলতে পারে।

তাই এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে যান। অন্যদেরও বলুন প্রার্থনায় নিমগ্ন হতে। যাতে এর ফলে সৃষ্টিকূলের কোথাও কোন ক্ষতি না হয়। আল্লাহ সবাইকে হিফাজত করুন।

 

One response to “প্রিয় নবী (সা.) সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সাহাবাদের নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।”

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরো সংবাদ