আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

যানজটে অতিষ্ঠ সুনামগঞ্জ পৌরবাসি।

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জ পৌর এলাকায় যানজটের কারণে জন দুর্ভোগ দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। শহরে প্রবেশ পথ পুরাতন বাস স্টেশন থেকে আলফাত স্কয়ার পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। রাস্তার পাশে বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং, ফুটপাতের দোকান এবং অতিরিক্ত অটোরিকশা এলোপাতাড়ি ভাবে চলাচলের কারণেই এই যানজট সৃষ্টি হয় বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় সন্ধ্যা থেকে দূরপাল্লার বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কালীন সময়ে সড়কে যানজট তৈরি হয়। জামতলা এলাকায় রাস্তায় মোটর সাইকেল গ্যারেজের ব্যবসায়ীরা চলাচলের রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে সাইকেল মেরামতের কাজ করার কারণে যানজটের তৈরি হয়। শহরের কালিবাড়ি রাস্তা দিয়ে গাড়ি প্রবেশকালে যানজট সৃষ্টি হয়। সড়কের আশপাশে অবৈধভাবে ফলের দোকান, সবজি বিক্রেতা, মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখা হয়। সিএনজি অটো চালকরা ইচ্ছেমতো সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করে যাত্রী উঠানামা করান। এতে দুর্ঘটনাসহ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারাও এব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
শহরের নতুন পাড়া এলাকার অটো চালক নীলকন্ঠ হালদার বললেন, আমি দশ বছর ধরে অটো চালাচ্ছি। আমি ট্রাফিক নিয়ম কানুন মেনে চলতে চেষ্টা করি। অনেকেই আছেন গাড়ি ক্রসিং করার সময় এলোপাতাড়ি ভাবে গাড়ি রাস্তার মাঝখানে রেখে যানজট সৃষ্টি করে। শহরে একটি মাত্র সড়ক। একবার যানজট সৃষ্টি হলে অনেক সময় লেগে যায় যট খুলতে।
মাইজবাড়ী গ্রামের রিকশা চালক রমজান আলী বললেন, আমি বিশ বছর ধরে এই শহরে রিকশা চালাই। আগে পা দিয়ে রিকশা চালাইতাম, এখন অটো রিকশা চালাই। আগে এতো যানজট ছিলো না। এখন প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। শহরের সড়কটি এমনিতেও ছোট, এরমধ্যে আশেপাশে দোকানের সামনে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখা হয়, ফুটপাতের দোকান বসে। যার কারণে সবসময় যানজট লেগে থাকে।
সদর উপজেলার টুকের বাজার এলাকার সিএনজি চালক আলমগীর বললেন, দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালাই। হেলপার, থেকে শুরু করে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করে ড্রাইভার হয়েছি। আর শহরে এখন অনেকেই ভাল করে না শিখেই অটো রিকশা চালায়, তারা যেমনে তেমনে রাস্তা ক্রসিং করার সময় যানজট তৈরি করে। এছাড়াও রাস্তার পাশে মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং করে রাখে, যার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।
গৌরারং গ্রামের সিনজি চালক তাজুল ইসলাম বললেন, বেশি পরিমাণে অটো রিকশা শহরে সয়লাব। এইজন্যই যানজটের সৃষ্টি হয়।
দোজা মার্কেটের অভি স্টোরের মালিক অমল সরকার বললেন, রাস্তার পাশে মোটর সাইকেল রাখা হয়, দুপুরের দিকে গাড়ি বেশি চলাচল করতে দেখা যায়। এ সময় যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া রাতের বেলায় সবজি বিক্রেতারা এসেও রাস্তা দখল করে রাখে, এইজন্য যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনগণ দুর্ভোগের শিকার হন।
কমিউনিটিং পুলিশিং সুলেয়মান জানান, শহরে একটি মাত্র সড়ক পথে অদক্ষ অটো চালক বেড়েছে। কালি বাড়ি রাস্তায় যখন প্রবেশ করে তখনই এলোপাতাড়ি ভাবে গাড়ি রাস্তায় রেখে এ সমস্যা তৈরি করে। তখন আমরা দ্রুত যট খুলে দিই। একটা গাড়ি যদি রাস্তা ক্রসিং করে, তখন অল্প সময়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তা রোধ করতেও আমাদের অনেক সময় লেগে যায়। তাছাড়া আমরা ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা লোকজনও কম।
ট্টাফিক ইন্সপেক্টর মুহিবুল ইসলাম বললেন, শহরের মেইন সড়ক দিয়েই সকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবি যাতায়াত করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যথা সময়ে পৌঁছতে হয়। যেকারণে সাময়িক সমস্যা হয়। এদিকে পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় মালবাহী গাড়ি, দূরপাল্লার বাস চলাচল করার সময় যানজট সৃষ্টি হয়। তারপরও আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করছি। যানজট নিরসনের জন্য চেষ্টা করছি।


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/somoyerb/public_html/wp-includes/functions.php on line 5059

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ