আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন কর্মস্থলে,পথে পথে ভোগান্তি।

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ:

ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমজীবি মানুষেরা। কর্মজীবি মানুষজন কর্মস্থলে ফিরে যেতে ঘর থেকে বের হয়েই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা সহ দূর পাল্লার বাসে দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছেন তাদের। এতে পথে পথে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
হানিফ মিয়া (৩৮) দোয়ারা বাজার এলাকায় বাড়ী। থাকেন ময়মনসিংহ শহরে। বিস্কুট ফেক্টুরীতে চাকুরী করেন তিনি। ঈদের ছুটি কাটিয়ে বুধবার রাত সাড়ে আটটায় সুনামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ কর্মস্থলে যাবেন। তায়েফ পরিবহনে সর্বশেষ সিরিয়ালের সাড়ে আটটার গাড়ির টিকেন চান তিনি। টিকেট কাউন্টার থেকে ভাড়া চেয়েছেন আটশ টাকা।
হানিফ মিয়া জানালেন, ঈদের আগের সপ্তাহে তিনি ময়মনসিংহ কর্মস্থল থেকে সিলেট হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তখন চারশ টাকা দিয়ে সিলেট এসেছেন। তারপর একশ টাকা দিয়ে সুনামগঞ্জে আসেন। পাঁচশ টাকা মোট খরচ করে সুনামগঞ্জে পৌঁছে যান তিনি। আজকে অতিরিক্ত ভাড়া শুনে ময়মনসিংহ কর্মস্থলে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তায়েফ পরিবহন ছেড়ে বিকল্প পরিবহনের খোঁজে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছেন তিনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জিনারপুর এলাকা থেকে শামিম মিয়া ময়মনসিংহ কর্মস্থলে যাবেন। আটশ টাকা ভাড়ার টিকেট সংগ্রহ করেছেন তিনি। শামিম মিয়া বললেন, ঈদের কয়দিন আগে ময়মনসিংহ কর্মস্থলে গিয়েছেন, তখন সাড়ে তিনশ টাকায় তিনি যেতে পেরেছেন। কিন্তু ঈদের পর আজকে আটশ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়েছে তাকে।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন এলাকায় বাবুপুর গ্রামের নুর আলম (৩০) বললেন, আমি নারায়ণগঞ্জে পোশাক গার্মেন্টসে চাকুরী করি। গত শুক্রবার বাড়ি থেকে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে যাই। রাতে একই সাথে কয়েকজন মিলে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার জন্য গাড়ি রিজার্ভ করি। চারশ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে আটশ টাকা গুনতে হয়েছে প্রত্যেককে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাতারকান্দি এলাকার রুপজান বেগম বললেন, বুধবার ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ছেলেকে দেখতে গিয়েছিলাম। ছেলে সেখানে দিন মজুরের কাজ করে। শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জ থেকে বাসে করে সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর এলাকায় নতুন বাস স্টেশনে আসি। সেখান থেকে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সাতারকান্দি গ্রামে যেতে ৬০ টাকার ভাড়া নিয়েছে ১০০ টাকা।
জামালগঞ্জের সাচনা ইউনিয়নের শুকদেবপুর গ্রামের মৃত হুসেন আলীর ছেলে নজীব আলী (২১)। তারা তিন ভাই, এক বোন। নজীব আলী ঢাকায় সিআরসি নামের সুতা কোম্পানিতে চাকুরী করেন। ঈদে ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। শুক্রবার রাতেই তাকে কর্মস্থলে যেতে হবে। কথা দিয়ে এসেছিলেন আরও দু’জন শ্রমিক সাথে করে নিয়ে যাবেন তিনি। কথামতো দু’জন সহ তিনি বাড়ি থেকে রওয়ানা হন।
গৗরারং এলাকার বেড়াজালি বাজার থেকে সিএনজি করে চল্লিশ টাকার ভাড়া পঞ্চাশ টাকা দিয়ে পুরাতন বাস স্টেশন পৌঁচ্ছেন তিনি। কর্ণফুলী বাসে ঢাকায় যাওয়া আসা করেন। ভাড়া দ্বিগুণ শুনে হিসাব মিলাতে পারছেন না নজীব আলী।
কথা হলে তিনি জানান, আমি ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। সীমিত বেতন। সবে এক বছর হয়েছে। আরও দু’জনকে চাকুরীতে যোগদানের জন্য সাথে নিয়ে এসেছি। ভাড়া দ্বিগুণ দাবি করছেন গাড়ির স্টাফরা। জন প্রতি আটশ টাকা করে তিনজনের গাড়ি ভাড়াই দুই হাজার চারশ টাকা। কি আর করব শেষ পর্যন্ত টিকেট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দা শরীফ উল্লাহ চৌধুরী বললেন, বাড়ি থেকে মান্নানঘাট হয়ে আমার কর্মস্থল সুনামগঞ্জে পৌঁচ্ছাতে দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হয়েছে। মান্নানঘাট থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার সদরে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে জনপ্রতি পঞ্চাশ টাকা ছিল, সেখানে গুণতে হয়েছে একশ টাকা। জামালগঞ্জের সাচনা বাজার থেকে সুনামগঞ্জে একশ টাকার ভাড়া দিতে হয়েছে দুইশ টাকা।
সুনামগঞ্জ বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বললেন, ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ থাকে। এই চাপ সামলানোর জন্য শতাধিক অতিরিক্ত বাস চলছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মহিবুল ইসলাম বললেন, যাত্রী পরিবহণের জন্য অতিরিক্ত বাস চলছে। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য নজরদারি রয়েছে আমাদের। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো যাত্রী এপর্যন্ত অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/somoyerb/public_html/wp-includes/functions.php on line 5059

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ