আজ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

একজন মানবিক মানুষ ২৮- বিজিবি পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জঃ

১৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ – সিলেটের বাড়ি ঘর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। সুনামগঞ্জের ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে।বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নেট সমস্যা দেখা দেয়।কেউ কারোরই সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে শহরের অলি গলি তলিয়ে যায়।বানভাসি মানুষদের অনেকেই ঘরের চালে,গাছের ডালে,আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কের আশপাশে আশ্রয় নিয়েছেন। দুই শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রে লক্ষাধিক বানভাসি আশ্রয় নিয়েছিলেন। চারদিকে হাহাকার! পরদিন শুক্রবার সকাল থেকেই সরকারি – বেসরকারি সংগঠন / সংস্থা সহ মানবিক মানুষেরা বানভাসিদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।রান্না করা খিচুড়ি, শুকনো খাবার সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা শুরু হয়।বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড,নৌবাহিনী সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বানভাসি মানুষের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
আমি গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে সব সেক্টর প্রধানদের সঙ্গে বানভাসিদের সেবায় দুর্গম এলাকায় কাজ করার সুযোগ হয়।আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,
সুনামগঞ্জে ২৮- বিজিবি পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান একজন মানবিক মানুষ হিসেবে জীবন বাজি রেখে তার বাহিনী নিয়ে বানভাসিদের সহায়তা করেন।শুক্রবার সকাল থেকে শুরু করে টানা দুই সপ্তাহ ধরে নানা ভাবে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছেন বিজিবি বাহিনী। রান্না করা খিচুড়ি খাওয়ানো থেকে শুরু করে,বিশুদ্ধ করণ টেবলেট, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, চাউল, ডাল,মোমবাতি, ম্যাচ লাইট,খেজুর, পিঁয়াজ, রসুন, আটা সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ২৮- বিজিবি বাহিনী। লে. কর্ণেল কমান্ডার মোঃ মাহবুবুর রহমান সহ বিজিবির সদস্যরা নিরলস ভাবে বানভাসি মানুষের সহায়তা করেন।সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষেরা খুবই খুশি। দুর্গম এলাকায় বানভাসি মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন বিজিবি পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান। তাদের সেবা ও সহযোগিতা পেয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন বলেন,আমি একজন প্যারালাইসিস রোগী।বন্যায় ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হলে,আমার পরিবার পরিজন নিয়ে মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিই।অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, চাউল, ডাল কিছুই ছিলনা।বিজিবি আমাদেরকে এই দুর্দিনে সব কিছু দিয়ে সহায়তা করেছেন।আমি ও আমার পরিবার পরিজন নিয়ে কয়েকদিন খেতে পেরেছি। একই এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, বন্যায় নিজ বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। সাথে কিছুই ছিলনা।কেউ খবরও নিলনা।এমতাবস্থায় বিজিবি আমাদের বিশুদ্ধ পানি সহ নানাবিধ ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন,আমরা চির ঋণী হয়ে থাকব বিজিবির কাছে।এতবড় বিপদে তারা আমার মতো বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করেছেন।আমরা প্রাণ খুলে দোয়া করব যেন বিজিবির পরিচালক স্যার বেশিদিন বেঁচে থাকেন,মানুষের সেবা করতে পারেন।আমার বিশ্বাস বিজিবি পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান ও বিজিবি সদস্যদের মতো সবাই আন্তরিক ভাবে বানভাসি মানুষের সহায়তা করলে বানভাসি মানুষের কষ্ট অনেকটা দূর হত,প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হত।অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা অবিরাম বিজিবি পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান ও বিজিবি সদস্যদের।


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/somoyerb/public_html/wp-includes/functions.php on line 5059

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ