আজ ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরে দুটি মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে!

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুরঃ

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফুটপাত আর সার্ভিস লেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দখলে। এতে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং কষ্ট ও বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুরে দুটি মহাসড়ক রয়েছে। একটি ঢাকা-ময়মনসিংহ অপরটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক।
সড়ক দুটি চার লেনের। দুই পাশে রয়েছে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত।

মহাসড়ক দুটির বিভিন্ন এলাকায় সার্ভিস লেন ও ফুটপাত দখল করে রেখেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ ভাঙারির মালামাল, স’মিলের কাঠ, ইট-বালু, গাড়ির গ্যারেজের মালামাল রেখে সড়ক দুটির বিভিন্ন অংশ দখল করে রেখেছে। এছাড়া গ্যারেজের মালিকরা সার্ভিস লেনের ওপর গাড়ি রেখেই মেরামত করছেন। এছাড়া অনেক শিল্প-কারখানার কভার্ডভ্যান সার্ভিস লেনে রেখে তা বন্ধ করে রেখেছে। এতে সার্ভিস লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং ফুটপাত দিয়েও পথচারীরা হাঁটতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে রিক্সা-ভ্যান-সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলছে উল্টো পথে এবং মহাসড়কের মাঝ দিয়ে চলাচল করেন পথচারীরা। এতে মহাসড়কে বাড়ছে ঝুকি ও দুর্ঘটনা।

এছাড়াও বিভিন্ন কাপড়ের দোকান, চায়ের দোকানসহ অন্যান্য দোকানপাট বসিয়ে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখলে রেখেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে করে বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়ক দুটি। এসব সমস্যার কারণে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে সড়কে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ওইসব ব্যবসায়ীদের জন্য কি মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে? ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখলে নেওয়া ওই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সুবিধা নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন এমন অভিযোগ করছেন অনেকেই।

গাজীপুর সদরের কোনাবাড়ী, বাইমাইল, নতুন বাজার, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার এর পূর্ব পাশসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত এবং সার্ভিস লেনও দখল করে রেখেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও রিক্সা-ভ্যান রেখে মহাসড়কের অর্ধেকই ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাখেন চালকরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টার বাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি, নয়ন পুর, আর একে সিরা মিক্স,
জৈনাবাজার ও নাসির গ্লাস এলাকায় রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং করে মহাসড়ক দুই লেন দখল করে রাখে। যার কারণে অন্য সকল যানবাহন চলাচলের মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়ও এমন দৃশ্য দেখা যায়।

ফুটপাত ও সার্ভিস লেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার জন্য প্রতিনিয়তই বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সবজির দোকান, চায়ের দোকান, গাড়ির গ্যারেজ ও ভাঙারি মালপত্র রেখে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রেখেছেন স্থানীয়রা। মহাসড়কে গাড়ি রেখে নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল উঠানামা করানো হয়। এসব কারণে মানুষ স্বস্তিতে মহাসড়কে চলাচল করতে পারে না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাজীপুর কোনাবাড়ী থানাধীন কোনাবাড়ী কলেজ গেট থেকে কড্ডা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের সার্ভিস লেন ও ফুটপাত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দখলে। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার এর পূর্ব পাশে ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে গাড়ির চাকা, পাম্পার মেশিন, পুরনো ইট, স’ মিলের কাঠ। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক লেন বন্ধ করে বিকল হওয়া গাড়ি রেখে মেরামত করছেন গ্যারেজ মালিকরা। এসব কারণে ওই স্থানে বহুবার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনাবাড়ী নতুন বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর ইট ও বালি রাখা হয়, বিভিন্ন দোকানের মালামাল রেখেও ফুটপাত ও সড়ক বন্ধ করে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে মা টিম্বার স’ মিলের মালিক মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, তার স’ মিলের সামনে রাখা গাছের কাঠগুলো তার না। অন্য কেউ সেখানে রেখে গেছেন বলে অন্যের উপর দায় চাপিয়ে দেন তিনি।

গার্মেন্টস শ্রমিক মিলি আক্তার জানান, ভাঙারি মালামাল, গাড়ির চাকাসহ বিভিন্ন কিছু রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রাখেন। এতে ফুটপাতে হেঁটে চলাচল করা যায় না তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এসব বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

আনোয়ার হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কে একটা শৃঙ্খলা থাকবে, সৌন্দর্য থাকবে ও নিরাপত্তা থাকবে। কিন্তু স্বার্থপর ওইসব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কারণে সেটা নেই।

ভাঙারি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, অনেক সময় গাড়িতে মাল আনার পর শ্রমিকরা ভাঙারি মালপত্র রাস্তায় ফেলে রাখেন। এতে মানুষের চলাচলের কিছুটা সমস্যা হয়। পরে তা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে সড়কে স্থায়ীভাবে ভাঙারি মালামাল রাখি না।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, সড়ক দখল করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-ট্রাফিক উত্তর) আহসানুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কেউ ফুটপাত অথবা সড়ক দখল করতে পারে না। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, ফুটপাত ও সার্ভিস লেনে দোকানপাট বসানো হয় এটা ঠিক। কিন্তু আমরা অভিযান চালিয়ে ওইসব দোকানপাট উঠিয়ে দেই। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর আবারও ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বসায়। প্রতিদিনই এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করতে হাইওয়ে পুলিশের টিম কাজ করছে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ