আজ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত।

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ:

১৪ জুন মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমার পানি কমেছিলো ১৬ সেন্টিমিটার। সন্ধ্যা ৬টায় একই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল পানি। কিন্তু একই পয়েন্টে ১৫ ঘন্টা পর আজ বুধবার পানি বেড়েছে ৩২ সেন্টিমিটার। সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে শহরের বিভিন্ন সড়ক পথ ও নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে । এদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার,ধর্মপাশা ও ছাতক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে জেলার বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা সাবমারজিবল সড়ক প্লাবিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তাহিরপুরের হাওরপাড়ের কিছু গ্রামে আফালের তান্ডবে কিছু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। জামালগঞ্জ-কাঠইর সড়কের উজজ্জ্বলপুর সড়কও ঝূকিতে রয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছাতকে তলিয়ে গেছে অনেক ঘর বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, মৎস্য খামার, গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ও হাট- বাজার। দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট। সব এলাকায় এখন বন্যার পানি থৈ-থৈ করছে। উপজেলার বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকা থেকে রহমতবাগ ফায়ারসার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত তলিয়ে গেছে ছাতক- সিলেট সড়ক। পানি বৃদ্ধির কারণে বুধবার দুপুর থেকে সিলেট সহ সারা দেশের সাথে ছাতকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও বন্যার পানিতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে ডুবছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ফলে দ্বিতীয় দফায় ডুবে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনেক এলাকার রাস্তায় উপর নৌকা দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঘরবাড়ি আবারো ডুবে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ।
সুনামগঞ্জ শহরের সাহেববাড়ি ঘাট, জগন্নাথবাড়ি এলাকা, তেঘরিয়া, বড়পাড়া,পশ্চিম হাজ্বী পাড়া, কাজির পয়েন্ট, নবীনগরসহ কয়েকটি এলাকার নিচু রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নাগরিকরা।
পৌর শহরের উকিল পাড়ার বাসিন্দা ইউসূফ আলী বললেন, বুধবার ভোররাত থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে। রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় সকাল থেকে রান্নাবান্না হয় নি। এতে সারাদিন না খেয়ে আছি।
ষোলোঘরের বাসিন্দা কল্পনা রানী বললেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরার বাসায়ও পানি ঢুকতেছে।পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে। ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া নোয়াগাঁও এলাকার কাহার মিয়া বলেন, কিছুদিন হয় পানি কমেছে। তবে আবারও টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পানি আমার বাড়ির উঠোনে। যদি এভাবে পানি বৃদ্ধি চলমান থাকে তাহলে আবারো ঘর ডুবে যাবে। নবী নগর এলাকার শিক্ষার্থী সজিব মিয়া বলেন, আমি এইচ এমপি স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ি।পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাওয়া আশা করা লাগে।উকিল পাড়ার ব্যবসায়ী বিপ্লব তালুকদার বলেন,পানি বাড়তেছে,মানুষ চলতে পারেনা,সড়ক ডুবে গেছে, ব্যবসাও মান্দা, বেচাকেনা হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডেন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামসুদ্দোহা বলেন, বুধবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৮.০৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছিল বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচে। টানা বর্ষণের কারণে ও উজানের বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে দ্রুত পানি বাড়ছে। তবে এখন বর্ষা মওসুম থাকায় ঢল ও বর্ষণ স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গতকালের চেয়ে আজ (বুধবার ১৫ জুন) বৃষ্টিপাতও বেশি হচ্ছে। সুনামগঞ্জে ৫১ মিলিমিটার এবং তাহিরপুরের লাউড়েরগড় পয়েন্টে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে পানি দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বন্যা মোকাবেলায় আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় জিআরের ২০ টন করে চাল পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ আনুষঙ্গিক সব কিছুরই মজুদ আছে। তবে দুর্যোগ সৃষ্টি হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/somoyerb/public_html/wp-includes/functions.php on line 5059

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ