আজ ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

অটো রিক্সা চালক যাত্রী রাণী দত্ত চান সহায়তা।

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ:

আমার অনেক টাকা ঋণপিন অইসে, আমি তিন লাখ টাকা কিস্তি তুলছি।আমি ঘর ভাড়া দিতে দিতে শেষ। আমার কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারলেই শান্তি অইত।
আমার বেটা অসুখ অইয়্যা পইরা রইছে।এরপর থাইক্যা আমি অটো রিক্সা লইয়্যা বাইরছি।কিস্তিতে অটো রিক্সা লইছি,সংসার চালাই,কিস্তি দেই।কষ্ট অয়।সারাদিন যা রোজি করি,কিস্তি দিয়া,সংসারে বাজার সদাই কইরা শেষ।
কেউ যদি আমার পাশে এই মুহুর্তে দাঁড়ায়, আমারে সাহায্য করে,অটো রিক্সার টাকাটা দিত, তার মতো ব্যক্তি অয়না এই দুনিয়ায়।
কিস্তি দিই,সংসার চলাই। খুব কষ্টে আছি আমি। পুয়া পুরির পড়ালেখার খরচ,খানি খরচ, কিস্তির টাকা সবতা দিতে অয়, খুব কষ্ট করি আমি।
উপরোক্ত কথা গুলো বলছিলেন, সুনামগঞ্জের পৌর এলাকার একমাত্র নারী চালক, জীবন যুদ্ধে হার না মানা অটো রিক্সা চালক যাত্রী রাণী দত্ত(৩৮)।
পাঁচ বছর ধরে যাত্রী রাণী দত্ত অটো রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তার স্বামী হৃদয় দত্ত (৪০) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে অসহায় দিনযাপন করছেন।
এরপর থেকেই যাত্রী রাণী দত্ত সংসারের হাল ধরে মাঠে নেমেছেন অটো রিক্সা চালিয়ে যাচ্ছেন অবিরত।
এক সাক্ষাতকারে যাত্রী রাণী দত্ত বলেন,
তার সংসারে বর্তমানে এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং তার স্বামী হৃদয় দত্ত সহ তার বিধবা মা নিয়ে সুনামগঞ্জের পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের ধোপাখালি এলাকায় ভাড়ায় থাকেন তিনি।বাসা ভাড়া সহ খাওয়া দাওয়া এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে, মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে এবং ছোট মেয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ে।
যাত্রী রাণী দত্ত আরও জানান, তার মা বিধবা ও বয়স্কও বটে! অথচ ভাতার আওতায় আনা হয়নি।এ ব্যপারে্ ওয়ার্ড কমিশনার ও মেওয় মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছেন অটো রিক্সা চালক যাত্রী রাণী দত্ত।
এদিকে অটো রিক্সার কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দেশ বিদেশে বসবাসরত বিত্তবান সহ সরকারি / বেসরকারি ও জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য চেয়েছেন অটো রিক্সা চালক যাত্রী রাণী দত্ত।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ