আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

অপহরণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশী গ্রেপ্তার!

দেওয়ান মোঃ ইমরান(দক্ষিণ আফ্রিকা):

দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই বাংলাদেশি । রবিবার (০৯ জানুয়ারি ২০২২)দেশটির ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন সংলগ্ন লেডিফেয়ারে আরেক বাংলাদেশীকে অপহরণ করতে গেলে পুলিশ এই দুই বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করে।
জানাযায়,এই দুই বাংলাদেশী ঐ এলাকায় বিন্টু নামের একজন বাংলাদেশীকে অপহরণ করতে গেলে অন্য বাংলাদেশীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় আটক রাখে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশী আশরাফ হোসেনের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি, অপরজন আল আমিনের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগ্ননাথপুরে।গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশী বর্তমানে লেডিফেয়ার পুলিশ স্টেশনে রয়েছে।
উল্লেখ্য :দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি কতৃক বাংলাদেশি অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবী আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। ভিসা এবং ইমিগ্রেশন ছাড়া অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার সুযোগে বাংলাদেশের অনেক দাগী আসামির নিরাপদ আশ্রয়স্থল এখন দক্ষিণ আফ্রিকা। বহু বাংলাদেশি অপরাধী বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় ও তাদের অপরাধ কার্যক্রম সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায়, দক্ষিন আফ্রিকায় বাংলাদেশি অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে পাকিস্তানি, নাইজেরিয়ান,এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় কিন্তু সন্ত্রাসী।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নাগরিকদের সামান্য অর্থে ব্যবহার করে নিদিষ্ট ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গোপন জায়গায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তখন অপহৃত লোকের স্বজনদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অপহৃতকে হত্যা করা হয়।
এর মূল অর্থ সাধারণত পাকিস্তানি বা নাইজেরিয়ান বা সিন্ডিকেট চক্রের প্রধানদের হাতে চলে যায়। দাবীকৃত অর্থের পরিমান সর্বনিম্ন ১ মিলিয়ন স্থানীয় মুদ্রা থেকে শুরু করে ত্রিশ মিলিয়ন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কোন কোন ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এর সাথে জড়িত বলে প্রমান পাওয়া যায়। ২০২০ থেকে এই পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জন বাংলাদেশিকে অপহরণ এবং অসংখ্য দোকান ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
এরমধ্য ২৫ জন উদ্বার হলেও, সাতজনের লাশ পাওয়া যায়,আর বাকিদের হাদিস পাওয়া যায়নি।
এই ব্যপারে বাংলাদেশে হাইকমিশন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
অপহরণের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে দেশটির ওয়েষ্টান ক্যপ প্রদেশ প্রথম স্থানে। এখানে আইন এবং পুলিশি অভিযানের স্বপ্লতার কারনে এই অঞ্চলকেই নিরাপদ সর্গরাজ্য হিসেবে বেচে নিয়েছে অপহরণকারীরা। অন্যদিকে গাউটেং প্রদেশেও অপরাধী চক্রের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। মুখোশধারী অনেক বাংলাদেশি ঘুরেফিরে নিদিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যবহার করে অপহরন করে। এই সিন্ডিকেটের অধীনে আবার বহু বাংলাদেশি মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাংলাদেশিরা অপহরণ বন্ধে অচিরেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ