আজ ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং

আলোচিত নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি মনি’র পেটে নয় মাসের বাচ্চা! জামিন নামঞ্জুর!

ফেনী (জেলা) প্রতিনিধি:

আলোচিত নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি মনি’র পেটে নয় মাসের বাচ্চা। কিন্তু জামিন মেলেনি এখনও।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান
রাফি হত্যা মামলার আসামি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কামরুন নাহার মনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার ২৮ আগস্ট দুপুরে মামলার ১৬ আসামিকে হাজির করার পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে মনির আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল তার জামিন আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কামরুন নাহার মনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানের নিরাপদ প্রসবের জন্য তার জামিন পাওয়া খুবই জরুরি। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না। তবে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হাফেজ আহমদের বিরোধিতার কারণে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জামিন শুনানি শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমদ। পুরো জেরায় তাকে মামলার এজাহার, চার্জশিট, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ওপর ৭১টি প্রশ্ন করেন আইনজীবী।

প্রশ্নের উত্তরে শাহ আলম বলেন,থানা হতে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ০.১ কিলোমিটার। এজাহারের তারিখের জায়গা খালি আছে। বাদীর এ জাহারে বর্ণিত ঠিকানায় চরছান্দিয়া ইউপি উল্লেখ নেই। তদন্তকালে হাতমোজা, কালো চশমা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এজাহারে বোরকার রঙের উল্লেখ নেই। এজাহারের সাথে কোনো আলামত ছিল মর্মে উল্লেখ নেই। এজাহারে দাহ্য পদার্থ উল্লেখ আছে তবে কেরোসিন উল্লেখ নেই। তদন্তকালে নুসরাতের পরীক্ষার হলের ফাইল উদ্ধার করা যায়নি।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে ১০ ধারায় মামলার নাম্বার উল্লেখ নেই। নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে চারজন বোরকা ও নেকাব পরা মেয়ে ডেকে নিয়ে যায় মর্মে উল্লেখ আছে। এজাহারের দ্বিতীয় পাতায় একজন ডেকে নিয়ে যায় মর্মে উল্লেখ আছে।

সবশেষে আইনজীবী ফারুক আহমদ তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলমকে প্রশ্ন করেন, পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার আসামিরা রিমান্ডে থাকার সময় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় পিবিআই এসপি জাহানারা ও এএসপি রিমা সেডো তদন্ত করেছেন। এ দুজন ডাক্তারকে ভুল বুঝিয়ে নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণ করান। উত্তরে শাহ আলম সত্য নয় বলে জানান।

মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে রুহুল আমিনের আইনজীবী কামরুল হাসান আদালতকে জানান, জেরা করার জন্য রুহুল আমিন ও শামীমের কথোকপথনের অডিও, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ও ভিডিও পাওয়া খুবই জরুরি। আদালত তখন সেগুলো বৃহস্পতিবার সরবরাহ করা হবে বলে আইনজীবীকে আশ্বস্ত করেন। মামলার তদন্তদকারী কর্মকর্তার অসমাপ্ত জেরা বৃহস্পতিবার ২৯ আগস্ট পুনরায় শুরু হবে আদেশ দিয়ে বিকালে আদালত মুলতবি করেন বিচারক মামুনুর রশিদ।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরো সংবাদ