আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

অসহায় হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার স্কুল।

দেওয়ান মোঃ ইকবাল, ফেনী:

ফেনীর দাগনভূঞা প্রান্তিকতায় বসবাসরত ভূমিহীন জনগোষ্ঠী, দিনমজুর, দারিদ্রক্লীষ্ট এবং নারী শিক্ষায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষাদান ও শিক্ষার আলো বিস্তারের কাজে উৎসর্গীকৃত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার স্কুল। ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ৩ নং পূর্বচন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড হাসানগনিপুর গ্রামে অবস্থিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, হাসানগনিপুর স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ নূর (আমেরিকা প্রবাসি) ও তার পরিবারবর্গের সাহায্য স্কুলটি নির্মিত হয় ২০০২ সালে। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় থেকে নূর ও তার বন্ধু বান্ধব এবং আত্নীয় স্বজন ও দানশীল ব্যক্তিগনের সার্বিক অর্থায়নে সম্পূর্ণরুপে পরিচালিত হচ্ছে নানাবিধ কর্মকান্ড। স্কুলটিতে অত্র অঞ্চলের সকলস্তরের জনগনের সন্তান সন্ততি এবং এতিম ও দূস্থদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাচ্ছে সমস্ত সুযোগ সুবিধা। প্রতিমাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যায় হয় স্কুল শিক্ষক বেতনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে। বিশাল পরিসর জায়গা একীভূত ২ একর ৩০ শতাংশের মধ্যে নির্মিত একাডেমিক ভবন, আবাসিক হোষ্টেল, আরবি পড়াশোনার আলাদাভাবে মাদ্রাসা, কাম্য আয়তনে খেলার মাঠ, শান বাঁধানো ঘাটসহ পুকুর, বাগ -বাগান, আঙ্গিনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় বিমোহিত ফুলের বাগান, কারুকার্য নির্মিত মাটিতে তৈরি বাংলাদেশের মানচিত্র,শহীদ মিনারসহ সকল প্রকার শিক্ষার উপকরণ বিদ্যমান রয়েছে অরফ্যান্স সেন্টারে। গত ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে জেএসসি পরিক্ষার্থীদের পাশের হার ৮২ শতাংশ, ২০১৯ এ ৯১ শতাংশ, ২০২০ এ ১০০ শতাংশ এবং ২০২১ এ শতকরা একশভাগ। পাবলিক পরিক্ষার ফলাফল ও সন্তোষজনক। গত ২০২১ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিলো ২৩২ জন বর্তমানে তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যার কারণে অত্র অঞ্চলে সর্বশ্রেণীর উন্নত ও গতানুগতিক থেকে ভিন্ন পরিবেশে শিক্ষাদানের লক্ষমাত্রা নিয়ে নিরলস কাজ করছেন প্রতিষ্ঠাতাসহ পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকমন্ডলিগন।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় মেম্বার নুজরুল ইসলাম মিন্টু জানান, এ অঞ্চলে মোহাম্মদ নুর সাহেবের এমন উদারতা, মানবদরদি ও শিক্ষানুরাগী খুবই বিরল। তিনি গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্য সব রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করছেন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় স্কুলটি এমপিওভূক্ত করার জোর আবেদন জানাচ্ছি।
অভিভাবক ও ব্যাবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, গরীব হতদরিদ্রের মাঝে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতি সুনামের সহিত পাঠদান করে আসছে। পরিক্ষার ফলাফল ও সন্তোষজনক।

প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি সোহেল আহাম্মদ হারুন জানান, দীর্ঘ বছর বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমপিওভূক্ত করণে এলাকার শিক্ষা বিস্তার ব্যাপক প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তিনি

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, স্কুলের অবকাঠামোগত পরিবেশ, জায়গা নির্ধারণ ও সরকারি সমস্ত নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি এ শিক্ষাপীঠ। এমপিও ভূক্তর যতগুলো শর্ত প্রযোজ্য তা সবগুলোই বিদ্যমান রয়েছে। আগামীর নতুন প্রজন্মের উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাদান করার নিমিত্তে এমপিওভূক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসি। ইতিমধ্যে ফেনী ৩ সাংসদ মাননীয় লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি মহোদয়ের নিকট ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। আশা করছি এমপি মহোদয় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ