আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মালেশিয়ায় হতভাগ্য প্রবাসীর লাশ মর্গে পরে আছে ১৮ দিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মালয়েশিয়ায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর ১৮ দিন ধরে একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে এক হতভাগ্য বাংলাদেশির লাশ। পরিবার দরিদ্র হওয়ার কারণে মরদেহ বাংলাদেশে নেয়ার খরচ জোগাতে পারছে না। তাই যেকোনো পন্থায় মালয়েশিয়ার মাটিতে লাশ দাফনের সম্মতি দিয়েছে পরিবার। জানা গেছে, জন্ডিস ও লিভারের রোগে গত ১৬ই অক্টোবর মো. জহিরুল ইসলাম জবু (৫৫) নামে গাইবান্ধার এই প্রবাসী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত জহিরুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার কবির পাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলী মুন্সির পুত্র। জহিরুল কোনো বিয়েশাদি করেনি এবং তার মা-বাবা মারা গেছেন আগেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে দেশে থাকা জহিরুল ইসলামের ভাইয়ের মেয়ে রোমানা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার চাচা জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগও করেননি। এই অবস্থায় তার লাশ দেশে আনতে গেলে বাংলাদেশি প্রায় ১ লাখ টাকার প্রয়োজন।
কিন্তু এত টাকা সংগ্রহ করার সামর্থ্য আমাদের পরিবারের নেই।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে থাকা প্রবাসী জানান, ২ সপ্তাহ ধরে জহিরুল ইসলামের মরদেহ দেশটির ইপুহ এলাকার লাজা হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। তার কোনো সঠিক ঠিকানা বা পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ তার সঙ্গে যে পাসপোর্টের ফটোকপি পাওয়া গেছে সেখানে তার বাড়ি নরসিংদী সদরে অবস্থিত বলে উল্লেখ থাকলেও সেই ঠিকানায় এই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায় জহিরের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, আমি ওই হাসপাতালে কর্মরত থাকার সুবাদে জানতে পারি ইপুহ লাজা হাসপাতালের মর্গে একজন বাংলাদেশির লাশ পড়ে আছে যার স্বজনের কোনো খোঁজ নেই। তখন আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করে জহিরের আসল ঠিকানা উদ্ধার করি। তার ঠিকানা উদ্ধার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি কিন্তু তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় লাশ মালয়েশিয়ায় দাফন করার সম্মতি দেয়। পরিবার লাশ না নিলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় কোনো এনজিওর মাধ্যমে লাশ দাফন করা হবে। তবে জহিরুল ২৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। তার সঙ্গে কোনো ভ্যালিড পাসপোর্ট বা ভিসার সঠিক ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। সে কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ করতো। জহিরের ভাতিজি রোমানা আক্তার জানিয়েছেন, যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করেন তাহলে তারা বিমানবন্দর থেকে তার লাশ গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে এই মুহূর্তে মরদেহ পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে পরিবার যদি ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তাহলে সরকার রাজি হলে তখন সরকারি খরচে লাশ দেশে পাঠানো যেতে পারে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ