আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিমা ভাঙচুরে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা পেলো পুলিশ!

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুরঃ

গাজীপুর সদর কাশিমপুর বাজার এলাকায় তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। প্রতিমা ভাংচুরের নেতৃত্বে ছিলেন মহানগর কোনাবাড়ি ইউনিটের জামায়াতের সভাপতি রবিউল ও শিবিরের দুই কর্মী।
এরইমধ্যে এক শিবিরকর্মী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে ওই শিবিরকর্মীর নাম জানায়নি পুলিশ।

বুধবার (২০ অক্টোবর) গাজীপুর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় এক জামায়াত নেতা এবং দুই শিবির কর্মীসহ এক পোশাক কারখানার কয়েকজন কর্মী হামলা ও ভাঙচুরে নেতৃত্বে দিয়েছেন।

জাকির হাসান বলেন, আটককৃতদের মধ্যে ২০ জনকে দুই দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এক শিবিরকর্মী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপর সাত জনকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১৪ অক্টোবর সকালে প্রতিমা ভাংচুরের নেতৃত্বে ছিলেন কোনাবাড়ি ইউনিটের জামায়াতের সভাপতি রবিউল ও শিবিরের দুই কর্মী। রবিউল ইতোপূর্বে এক মাদ্রাসায় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কয়েকজন কর্মীও হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। হামলায় আরও যারা জড়িত তাদের আটকের অভিযান অব্যাহত আছে।

কাশিমপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার পারিবারিক মন্দির পরিচালনাকারী সুবল চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের দুঃসময়ে সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসকসহ অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুব-এ খোদা বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে কাশিমপুর বাজারের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবুল রুদ্র, কাশিমপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার পারিবারিক মন্দির পরিচালনাকারী সুবল চন্দ্র দাস ও পালপাড়া নামাবাজার এলাকার সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পরিমল পাল বাদী হয়ে মামলা তিনটি করেছেন।

প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রথম ২০ জনকে আটকের পর আদালতের নির্দেশে দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পরে আরও আট জনকে আটকের পর আদালতের নির্দেশে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সাত জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবুল রুদ্র বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে পূজারিরা মন্দিরে পূজা-অর্চনা করছিলেন। সকাল আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে কয়েকশ’ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরে হামলা চালায়। তারা লক্ষ্মী ও অসুরের প্রতিমা ভাংচুর করে চলে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দেড় থেকে দুইশ’ লোক কাশিমপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী সুবল দাসের পারিবারিক মন্দিরে এবং স্থানীয় পালপাড়া নামাবাজার সর্বজনীন মন্দিরে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা মন্দিরের সব প্রতিমা ভাংচুর করে। এ সময় ২০ হামলাকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ