আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্কুল কলেজ খোলা পেয়ে আনন্দিত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুরঃ

১৮ মাস কোভিড -১৯ উপলক্ষে বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে স্ব-শরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষক সকলের নিকট আজ আনন্দের দিন।

এদিকে দীর্ঘদিন পর সন্তান স্কুলে যাওয়ায়
অভিভাবকদেরও অনন্দের কমতি ছিলোনা, বেশ আনন্দিত দেখা গেছে তাদের। তারা মনে করছেন এতে করে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে, যা এতদিন সম্ভব হয়নি। আবার কিছু অভিভাবক এটাও মনে করছেন এখনও করোনা সংক্রমণ কমেনি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা দরকার ছিলো।

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ছে। স্কুল-কলেজে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা কঠিন। আমি কিছুটা চিন্তিত। আমার মনে হচ্ছে সরকার কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। আর ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। সংক্রমণ আর একটু কমলে স্কুল কলেজ খোললে সুবিধা হতো।”

অন্য আরেকজন অভিভাবক মনিরা আক্তার বলেন, তার সন্তান স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
তিনি বলেন, “স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়াতে বাচ্চাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। তাদের মানসিক বিকাশ থমকে গেছে। তাদের শেখার আগ্রহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের অ্যাক্যাডেমিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর পড়বে। আমরা সচেতন থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ হওয়া কঠিন। তাই আমি মনে করি স্কুল কলেজ খোলা রাখা উচিত। এবং সেটা আরো আগেই খুলে দেওয়া উচিত ছিল। ”

আরেক অভিভাবক মরিয়ম আক্তার বলেন, “ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে। ছেলেমেয়েদের মানসিক অবস্থা যা হয়েছে তাতে এর আগে সব সিলেবাস শেষ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।”

এদিকে ছাত্রছাত্রীরা খুবই আনন্দিত। স্কুল-কলেজ খোলায় তারা বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর আতিকুল ইসলাম বলেন, “সামনে আমাদের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে কলেজে আমাদের ক্লাস হওয়াটা জরুরি। আমরা বাসায় বসে পড়াশোনা করেছি, কিন্তু সেটা খুব একটা কার্যকরী হবে না। অনেক কিছুই আমরা না বুঝে মুখস্থ করেছি। কলেজে এসে দেখলাম শিক্ষকরা প্রতিটি শিফটকে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করেছে যাতে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অবস্থান করতে না পারে। আমি মনে করি না ভয়ের কিছু আছে।”

পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর আর এক ছাত্র বলেন, আমাদের টেস্ট পরীক্ষা হয়নি। যেটা হওয়া জরুরি। আজ খুললো, জানিনা শিক্ষকরা কী বলবেন। সম্ভবত পরীক্ষার চেয়ে তারা সিলেবাস শেষ করায় বেশি মনোযোগী হবেন।”

এদিকে নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা নাসরীন বলেন, “আমরা খুবই আনন্দিত স্কুল খোলা পেয়ে। ছাত্রছাত্রীরা খুবই আনন্দিত।
অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা অনলাইনে ক্লাস নিয়েছি কিন্তু সবাই সেটা ভালোভাবে করতে পারেনি। অনেকেরই ডিভাইস ছিলনা তাই তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেনি। এখন খোলাতে আশা করি ভাল ভাবে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে।”

“তবে আমরা খুব আনন্দিত যে, আমরা আমাদের প্রাত্যহিক রুটিনে ফিরে এসে স্ব- শরীরে পাঠবদানে ফিরে এসেছি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থীকে বসাচ্ছি। হাত ধোয়াসহ অন্যান্য সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধিমালা স্কুলে মানা হচ্ছে। তারপরও সবারই কমবেশি আতঙ্ক আছে,” বলেন তিনি বলেন।

আরেক শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর খোলার অনুভূতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে যেনো এক আনন্দের ঢেউ তুলেছে। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া ফুল ও রঙিন বেলুন দিয়ে। শরীরের তাপমাত্রা মেপে মেপে প্রবেশ করানো হয়েছে। যাদের মাক্স নেই তাদের দেওয়া হয়েছে। এ যেনো এক নতুন উচ্ছ্বাস।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ