আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যৌতুকের নির্মমতার শিকার ফুলগাজীর অমি!

ফেনী প্রতিনিধি :

ফেনীর পরশুরামের সাতকুচিয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে সাপ দিয়ে দংশন করে হত্যা করার অভিযোগ করেছে ওই গৃহবধূর পরিবার ও সাতকুচিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মৃত আবুল হাসেম মিয়ার বড় ছেলে লিখন আহম্মেদ এর স্ত্রীকে তাহার মাতা-খাইরুন নেছা, দেবর মোঃ রাসেল, বোন-নুর নাহার, হাছিনা ও সামছুন নাহার, বোনের স্বামী আবুল কাশেম, ভাগিনা মোহাম্মদ হোসেন কতৃক দীর্ঘ দিন যাবত যৌতুকের জন্য নানা ভাবে শারিরীক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করে আসছে বলে জানাযায়।
জানাযায়. বিয়ে হওয়ার ৫ বছর যাবত অনেক সময় মেয়ের বাবা-মা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সব সময় টাকা পয়সা জিনিসপত্র দিত যাতে তাদের মেয়ে সুখে থাকে। মেয়ে ও সমাজ সংসারের লোক লজ্জার ভয়ে নিরবে সব সহ্য করে আসছে। মেয়েকে শশুর বাড়ির লোকজন সবসময়ই বলতো টাকা না দিলে তালাক দিয়ে দিবে। মেয়েকে পরে মেরে ফেলার জন্য সাপ নিয়ে এসে গোপনে মুরগীর খোয়াড়ে রেখে তাকে সাপ দিয়ে দংশন করায় গত ০৭-০৮-২০২১ ইং, যার ছবি। সাপ দিয়ে দংশনের পর তাকে মেরে ফেলার জন্য গ্রাম্য ওজার কাছে নিয়ে দায়িত্ব শেষ করে দুপুর ২টার সময় সাপে কামড়ালে তারা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় নাই। পরে মেয়ের মা খবর শুনে রাত ১০ টার সময় ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, মেয়ে বেচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম, তবুও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে একটু ভালো হয়, কিন্ত মেয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে বোবা হয়ে যায় হতবাগা মেয়ে অমি। ডাক্তাররা জানালো, মানসিক নির্যাতনের ও সাপের বিষের কারণে এই অবস্থা আর কোন দিন কথা হয়তো বলতে পারবে না অমি। মেয়ের এই বিপদের দিনে তার স্বামী, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এক টাকাও দিবেনা বলে জানিয়ে দেয়।
মেয়েকে নয়দিন পর হাসপাতাল থেকে এনে বাসায় অক্সিজেন দিয়ে রাখার পর মেয়ে বাবার বাড়িতে ছেলের মা, বোন, বোনের স্বামী , বাগিনা, বাগনি ও আরো সন্ত্রাসী নিয়ে এসে মেয়ের বাবার নতুন ফাঁকা বাড়ি থেকে মেয়েকে এসে জোর করে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে মেয়ের মা, বোন, জেঠা বাধা দিলে তাদের মারধোর, গালাগালি করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর , পরে এলাকাবাসী তাড়াদিলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চান নির্যাতিত অমির পরিবার। যৌতুকের নির্মমতার শিকার ফুলগাজীর মুন্সিরহাটের পূর্ব দরবারপুর গ্রামের মেয়ে খালেদা ইসলাম অমি।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ