আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ ইং

দাগনভূঞায় সূর্যমুখীর হাসি

দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি:

দাগনভূঞা উপজেলার কৃষকদের সূর্যমুখী চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আগে বছরের এক-তৃতীয়াংশ সময় পতিত থাকত তাদের জমি। সেখানে সূর্যমুখী চাষ করে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন কৃষকরা। অর্থকরী ফসল হিসেবে সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল। এ জনপদের কৃষকরা আগে জানত না কিভাবে চাষ করা হয়।

কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ বছর উপজেলায় প্রণোদনা ২০ হেক্টর, ফলোআপ ০৮ হেক্টর, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী ০৭ হেক্টর ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ০২ হেক্টর সহ সর্বমোট ৩৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। ওইসব বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে এখন সূর্যমুখীর সমারোহ। কেউ ফসল তুলছেন, কেউ বা ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেতের ফলন তোলার কাজ শেষ হয়ে গেছে।

মাটি ও আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সূর্যমুখী চাষিরা। এতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ফলন হওয়ায় চাষিরা ফসল ঘরে তোলার কথা ভাবছেন। বাজারে দাম বেশি হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি একর জমিতে সূর্যমুখীর ফলন হয় ২০ থেকে ২৪ মণ। এর থেকে তেল পাওয়া যায় প্রায় ১২ মণ। প্রতিকেজি তেল বাজারে ২৮০ টাকা দামে বিক্রি করা যায়। সূর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর কোনো অংশই ফেলা যায় না।

উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর সূর্যমুখীর চাষ করে সফল হয়েছি। তাই এ বছরও চার একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। ফলন অনেক ভালো। আশা করছি, গত বছরের মতো এ বছরও লাভবান হতে পারবো।

উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিন নেয়াজপুর গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মোজাম্মেল হক হাছান ৪০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে সন্তুষ্ট।

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দাগনভূঞায় সূর্যমুখীর আবাদ শুরু হয়েছে। গত বছর ০১ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এ বছর ৩৭ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামীতে উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ আরো বাড়বে। এতে একদিকে সূর্যমুখীর আবাদ বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ