আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

সম্মাননা করোনা যুদ্ধা কিন্তু অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি কোথায়?

মোহাম্মদ রিয়াদ, ময়মনসিংহ জেলাঃ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত করোনার ১ম টেউ বাংলাদেশকেও আক্রমণ করে।৮ই মার্চ প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হওয়ার পর ২৬ মার্চ লক ডাউনের ঘোষণা আশার পর পর দেশের সকল বাহিনীসহ বিভিন্ন সংগঠন এর স্বেচ্ছাসেবক সচেতনতা তৈরি ও নিম্নশ্রেণীর প্রান্তিক লোকের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে কাজ করে।

সকল স্বেচ্ছাসেবক নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে দিন-রাত কাজ করে। তার ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে বিভিন্ন সংগঠন এর মাধ্যমে।

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক টিম। এই টিম এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার সকল নিম্নশ্রেণীর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছানো হয় খাদ্য সহায়তা,মাক্স ক্যাম্পিং ইত্যাদি সচেতনতার কাজ করা হয়।

যার ফলে বিভিন্ন সংগঠন বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওই করোনা যোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা করে কিন্তু এই সম্মাননা দেওয়া হয় করোনার ২য় টেউ আশার মধ্যে যখন সকল বিজ্ঞানী শীতের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে বলে এবং সরকার থেকে “মাক্স নেই সেবা নেই” ঘোষণা দেওয়ার সময়।

“মানবসেবায় আমরা ময়মনসিংহ” নামের সংগঠন তাদের ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে করোনা যুদ্ধাদের সম্মাননা করা হয়।
কিন্তু উক্ত অনুষ্ঠানে মানা হয়নি স্বাস্থ্য সচেতনতা, নেই কারো মাক্স,নেই সামাজিক দূরত্ব।

তাহলে এরা কি করে করোনা যোদ্ধা?

এরাই কি মানুষকে সচেতন করেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কি এরাই খাদ্য সহযোগিতা করেছে,এরাই কি মাক্স ক্যাম্পিং করেছে!!

আমরা সহজেই সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি কারণ ইহা তৈরি করতে মাত্র ১০০/২০০ টাকা প্রয়োজন।

আর টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সংগঠন এর পুরষ্কার বিতরণ এর ঘটনা তো বলে শেষ করে যাবে না। প্রতি সংগঠন এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে চলে রেজিষ্ট্রেশন মাধ্যমে টাকা নিয়ে সম্মাননা দেওয়া।

এটা সম্মাননা না ব্যবসা নাকি হাস্যকর অনুষ্ঠান। এভাবে চলতে থাকলে সত্যিকারের একজন ব্যক্তির সম্মাননা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।এই সম্মাননা শব্দটাকেই আমরা সম্মানিত না করে কলঙ্কিত করছি প্রতিনিয়ত।

এ নিয়ে “মানবসেবায় আমরা ময়মনসিংহ” এর সভাপতি রায়হান আকন্দ তাদের ভুল মেনে নিয়ে বলেন “করোনার সময়টা মাঝখানে স্থির অর্থাৎ কম ছিল।
যেখানে সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে।প্রশাসনিক, রাজনৈতিক কিংবা স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা থেকে শুরু করে প্রায় অনেক সংগঠন সহ অনেকেই সমাগম করে যাচ্ছিলাম।তার সাথে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও ছিল সচেতনতা। সাংগঠনিকভাবে পালন করতে গেলে কেক কাটা বা ফটোসেশনে আমরা মাস্ক বা সামাজিক দূরত্ব রাখতে পারিনি।তবে এ বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত।
করোনার ২য় ওয়েভে আমাদের সবার একসাথে রুখতে হবে।সেই সাথে করোনাকালীন মানবিকযোদ্ধা হিসেবে যারাই সম্মাননা পেয়েছেন বিভিন্ন প্লাটফর্ম কিংবা অন্যান্য।সেখানে আমরা অন্যান্যদের মত আয়োজন না করে নিজেদের মাঝে নিজেরাই সম্মাননা দিয়েছি যাতে কাজের গতি বৃদ্ধি পায়।
আর বেশকিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি হয়ত রেজিষ্ট্রেশন বা অর্থের বিনিময়ে ক্রেস্ট বা সম্মাননা দিচ্ছেন।আমরা সেটা কোনোভাবেই সাপোর্ট করিনা এবং এমন রেজিষ্ট্রেশনে অংশগ্রহণও করিনা।”

এই সকল সম্মাননা বন্ধ করা না গেলে আমাদের সমাজে এই প্রভাব বেড়েই চলবে।এই অবস্থা থেকে উত্থানের পথ হলো সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা দেওয়া হোক।ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ম করা হোক। যে কেউ চাইলেই কাউকে সম্মাননা দিতে পারবে না এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

সম্মাননা নিয়ে খেলা বন্ধ হোক মানবতার জয় হোক স্বেচ্ছাসেবক এর জয় হোক সকলেই স্বেচ্ছায় কিছুর বিনিয়োগ ছাড়াই মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যাক।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ