আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

সেনবাগে জেঠির বিরুদ্ধে দেবরের মেয়ে নাছিমাকে বিক্রি করার অভিযোগ, বিচার চেয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন!

ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ রিপন,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডমুরুয়া ইউপির পরিকোট গ্রামে জেঠির বিরুদ্ধে নাছিমা আক্তার(২৬) নামে এক দেবরের মেয়েকে অপহরণ করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে মানব বন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকার শত শত নারী-পুরুষ।অপহ্রত নাছিমা,তার বাবা-মা ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে নাছিমার মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার আপন জেঠি আফরোজা বেগম মুন্নি,তার জেঠা ইদ্রিস মিয়া ও জেঠাতো ভাই আবদুল্লা শফি তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাবে বলে মুন্নির বোনের বাড়ি ওয়াসেকপুর গ্রামে নিয়ে যায়।তার কান্নাকাটির এক পর্যায়ে পরদিন তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার কথা বলে ফেনী তাকিয়া রোডের সৈয়দ বাড়ির জয়নাল আবেদীনের নিকট নগদ ২ লক্ষ টাকা ও মাসিক বেতনের শর্তে বিক্রি করে গোপনে বাড়িতে চলে আসে।এরপর নাছিমা বাড়িতে আসার জন্য কান্নাকাটি শুরু করলে শুরু হয় তার উপর অমানসিক নির্যাতন।
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সে প্রতিনিয়ত শারিরীক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।এরই মধ্যে গত ৮ মাস পূর্বে নাছিমাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জয়নাল আবেদীনের বাড়ির কর্মচারী আবদুল গণির নিকট বিবাহ দেয়া হয়।বর্তমানে সে ৪ মাসের অন্তসত্বা।এরপর গত ৫ নভেম্বর সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পথে পথে বিভিন্ন লোকজনকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করে বাড়িতে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।বাড়িতে ফিরে সে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য লোকজনের উপস্থিতিতে পুরো ঘটনা খুলে বলে।তারপর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বাদীনি থানায় মামলা করতে আসলে তাকে থানা থেকে কোর্টে মামলা করতে বলে।এরপর সে নোয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ একটি এজাহার দায়ের করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মানববন্ধনের কথা মাইকে প্রচার করলে থানা থেকে বুধবারে পুলিশ গিয়ে সিএনজি ও মাইক নিয়ে আসে।এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মানববন্ধনে যোগ দেন এলাকার শত শত নারী -পুরুষ।

এ বিষয়ে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল বাতেন মৃধা জানান,ভিকটিম মামলা করার জন্য থানায় আসেনি এবং মানববন্ধন প্রচারের কোন মাইক ও সিএনজি থানায় আনা হয়নি। আমরা থানায় বা কোটের কোন অভিযোগ এখনো পাইনি,তবে ইদ্রিসের পক্ষ থেকে কোটে করা একটি অভিযোগ পেয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের ঘরে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং অভিযুক্ত ইদ্রিসের মোবাইলে কল দিলে তিনি দূরে আছেন বলে লাইন কেটে দেন এবং পরে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ