আজ ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং

আত্মঘাতী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় হাইটেক ড্রোন বানাচ্ছে ভারত

আগামী দশ বছরের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিয়ে শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় আঘাত হানতে পারবে ভারত। এগুলো ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে।স্বয়ংক্রিয়ভাবে  উড়তেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে তাতে হামলা চালাবে ড্রোনগুলো ,ইতোমধ্যে দেশটি এ ধরনের ড্রোন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (১২ জুলাই) তাদের এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে।

এই ড্রোনের নাম আলফা-এস।প্রতি ঝাঁকে কয়েক ডজন ড্রোন থাকতে পারে। শত্রুপক্ষ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করলেও, বাকিগুলো ঠিকই লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে মিশন শেষ করতে পারবে।

ভারতীয় সরকার পরিচালিত হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড ও ব্যাঙ্গালুরুর নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস যৌথভাবে দেশটির প্রথম গুচ্ছ ড্রোন তৈরিতে কাজ করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যেই এর প্রটোটাইপ আনতে চান প্রতিষ্ঠান দু’টির প্রকৌশলী ও সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞরা।ইঞ্জিনিয়ার এবং সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অত্যাধুনিক বিমান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গত দুই বছর ধরে প্রথমবার দেশীয় প্রযুক্তিতে এই সোয়ার্ম ড্রোন তৈরি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রকৌশলী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আমরা এই অত্যাধুনিক ড্রোনগুলো তৈরি করেছি। আমরা চেষ্টা করছি বিপজ্জনক সামরিক অভিযানে যাতে পাইলট ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই ড্রোনগুলি শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে তা নিশ্চিত করা। যার ফলে সামরিক অভিযানের সময় প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।’

প্রত্যেকটি ড্রোনে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক থাকবে, যা দিয়ে সেটি লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী হামলা চালাবে।

এসব ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, যা এখনো বাজারে সহজলভ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ এসব প্রযুক্তি তৈরি করছে।

ওই প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ ধরনের (ড্রোন নির্মাণের) পরীক্ষা সারাবিশ্বেই চলছে, তবে কোনো দেশই তাদের প্রযুক্তি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবে না।

এ কারণে, কমব্যাট এয়ার টিমিং সিস্টেম বা ক্যাটস প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে গুচ্ছ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত।

ক্যাটস প্রকল্পে আল্ট্রা-হাই অ্যাল্টিচিউড অর্থাৎ অনেক উচ্চতায় ওড়ার মতো একটি ড্রোন তৈরি হচ্ছে, যেটা একটানা তিন সপ্তাহ উড়তে সক্ষম, পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ছবি ও ভিডিও সম্প্রচার করবে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরো সংবাদ