আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা।

রাজশাহী জেলাপ্রতিনিধিঃ

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব ড. আনারুল হক প্রামানিকসহ ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন কাজ না করেই সরকারি প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলাগুলো করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বোর্ডের উপসচিব (ভান্ডার) সেলিনা পারভীন (৫৩), নেসার উদ্দিন আহম্মেদ (৫২), উপবিদ্যালয় পরিদর্শক মানিক চন্দ্র সেন (৪৮), সহকারী প্রোগ্রামার ফরমান আলী (৪৬), নিরাপত্তা কর্মকর্তা গোলাম ছরওয়ার (৫১), সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহিরুল হক (৫১), ঈমাম আবুল হাশেম মো. রহমতুল্লাহ (৪৫), ডাটা এন্ট্রি-কন্ট্রোল অপারেটর আজহার আলী (৩৬) ঠিকাদার শওকত আলী (৫৪), ইসরাফিল হোসেন (৩৩), রওশন রেজভী আলম (৪৩) ও রিপন রায় কুশ (৩৫)।

মামলা তিনটির একটিতে ৮ লাখ ৯১ হাজার ২৭৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া একটি মামলায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা এবং অপরটিতে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ১৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মোট টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ব্যক্তিতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৫-২০১৬ থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে অবৈধভাবে টাকা আত্মসাত করেছেন।

কাজগুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের অফিস কাম বাসভবনের সংস্কার, মোটরসাইকেল এবং জীপগাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণ, পুরাতন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার রং করা, পুরাতন ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার রং করা, পুরাতন ভবনের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণ, উপকরণ শাখা ও কর্মচারী ইউনিয়ন কক্ষের মূল রাস্তা নির্মাণ, গ্যারেজের সামনে রাস্তা উচুকরণ, প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা পাথর সিমেন্ট দ্বারা উচু করা, পুরাতন ভবনের স্কুল কলেজ নিবন্ধন শাখার পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং ভবন সলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ পাশ ভরাটসহ সাপোর্ট ওয়াল দ্বারা সোলিং রাস্তাকরণ।

মামলার বিষয়ে কথা বলতে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব আনারুল হক প্রামানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলা তিনটির আসামি বোর্ডের বর্তমান উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষণ অফিসার মানিক চন্দ্র সেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এখন মাথা ঠিক নেই। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ