আজ ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

পোরশায় মাল্টা চাষে সফল ওবায়দুল্লাহ শাহ্।

পোরশা(নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় বরেন্দ্র ভুমিতে মাল্টা চাষ করে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছেন ওবায়দুল্লাহ শাহ নামে একজন সৌখিন কৃষক। প্রতি বছর তাঁর উৎপাদিত মাল্টা থেকে আর্থিক আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় তাঁকে অনুসরন করে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মাল্টা চাষে।

নওগাঁ জেলার ঠা ঠা বরেন্দ্র ভুমি অধ্যুষিত পোরশা উপজেলা। উঁচু নিচু ষ্টেডিয়ামের গ্যালারী সাদৃশ্য জমিতে পানি ধরে রাখা খুবই কঠিন। তাই ধান চাষে উপর্যুপরি লোকসানের মধ্যে পড়ে এই অঞ্চলের কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে আগ্রহী হওয়ায় জেলার পোরশা , সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায় প্রচুর পরিমাণ আমবাগান গড়ে উঠছে। এই এলাকায় যে দিকে চোখ যায় শুধু আমের বাগান।

এরই পাশাপাশি কেউ কেউ লাভজনক ভিন্ন ফসল উৎপাদনের নজির সৃষ্টি করেছেন। তাঁদেরই একজন পোরশা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সৌখিন চাষী ওবায়দুল্লাহ শাহ। তিনি তাঁর নিজস্ব ৫৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মাল্টা, বিভিন্ন প্রজাতির আম এবং পেয়ারা বাগান। এর মধ্যে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান । এই বাগান গড়ে তুলতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। তাঁর উৎপাদিত মাল্টা বাগানের মধ্যে ৮ বিঘা জমির বাগানে বিগত ৩ বছর ধরে মাল্টা ধরছে আর ১০ বিঘা নতুন বাগান। এই ৮ বিঘায় রয়েছে মোট এক হাজার মাল্টা গাছ। প্রথম বছর প্রতি গাছে ৭ থেকে ৮ কেজি করে মাল্টা উৎপাদিত হয়েছে। এতে এ বছর মোট মাল্টা উৎপাদিত হয়েছে ৭ হাজার কে জি থেকে ৮ হাজার কে জি। প্রতি কে জি পাইকারী ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকায়। দ্বিতীয় বছর প্রতি গাছে কমপক্ষে ২০ কেজি করে মাল্টা উৎপাদিত হয়েছে, যার বিক্রি মুল্য ছিল প্রায় ২০ লাখ টাকা। আর এ বছর তৃতীয়বারের মত প্রতি গাছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ কে জি করে মাল্টা ধরেছে। এতে এ বছর এই বাগানে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কেজি মাল্টা উৎপাদিত হবে। তাঁর মাল্টা বিক্রির প্রধান বাজার নাটোর। নাটোরের ব্যবসায়ীদের নিকট তাঁর বাগানের মাল্টা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি আগের মতই ১শ’ টাকা দরে। সেই হিসেবে এ বছর তাঁর জমির মাল্টা বিক্রি হবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। তাই এখন তিনি আর্থিকভাবে খুবই লাভবান। এ ছাড়াও তিনি তাঁর মোট ৫৫ বিঘা জমির সমন্বিত বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির আম এবং পেয়ারাও চাষ করেছেন। এ বছর কেবলমাত্র পেয়ারা বিক্রি করেছেন প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার। এ ছাড়াও কিছু জমিতে আম, পেয়ারা এবং মাল্টার চারা তৈরী করেছেন। এ বছর কেবলমাত্র আম, মাল্টা ও পেয়ারা চারা বিক্রি করেছেন ১০ লাখ টাকার।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজ আলম জানান, বরেন্দ্র অধ্যুষিত এসব উঁচু জমিতে মাল্টা চাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থ্পান করেছেন উপজেলার তেঁতুলিয় গ্রামের ওবায়দুল্লাহ শাহ। তিনি একটি বড় মাল্টা বাগান গড়ে তুলে অনেক লাভবান হয়েছেন। তাঁকে অনুসরন করে এলাকার অনেকেই এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকার মাল্টা চাষীদের সার্বক্ষনিক সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/somoyerb/public_html/wp-includes/functions.php on line 5059

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ