আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

শরৎ এলো সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে!

সময়ের বাতায়ন:

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে প্রকৃতিতে এসেছে শরৎকাল। আজ পহেলা ভাদ্র। শরতের প্রথম দিন। বাংলা ঋতু অনুসারে ভাদ্র আর আশ্বিন মাসজুড়ে শরৎকাল। ঋতুচক্রের বর্ষ পরিক্রমায় শরতের আগমন ঘটে বর্ষার পরেই।

বর্ষার অঝোর বর্ষণ, বিজলি আর বজ্রপাতের গগণবিদারী গর্জন , পথঘাট পিচ্ছিল, কর্দমাক্ত, ও স্যাঁতস্যাঁতে এমনই এক আবহ ছেড়ে প্রকৃতিতে শরৎ আসে শান্ত, সিগ্ধ আর কোমলতার রূপ নিয়ে, যেখানে নেই কোনো মলিনতা, আছে নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছ্বাস।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দের রূপসী বাংলায় যৌবন বিকশিত হয় শরতের আকাশে। প্রকৃতি এ সময় মহাকবি কালিদাসের ভাষায়, ‘নববধূর’ সাজে সজ্জিত হয়ে উঠে। মেঘহীন নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় প্রকৃতিপ্রেমীদের মন।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তাই শরৎকে দেখেছেন ‘বিরহী নারী’ হিসেবে। শরতে শেফালি, মালতী, কামিনী, জুঁই আর টগর মাথা উঁচিয়ে জানান দেয় তার সৌন্দর্য। মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। গ্রামীণ প্রকৃতিতে শরৎ আসে সাড়ম্বরে। যদিও ইট-কাঠের নগরীতে শরৎ থেকে যায় অনেকটা অন্তরালে। আবার, এই শরতেই হয়ে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কবির ভাষায়: ‘আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির/ খেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা/নীলাকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা …

আসলে তাই, নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে প্রকৃতিতে শরতের আগমন। মেঘ আর রৌদ্রের লুকোচুরি, ঝরা শেফালির পথ, কাঁশবনের শন শন সুর, আমাদের জানান দেয়, শরৎ এসেছে প্রকৃতিতে। তাই তো আমরা প্রকৃতিতে দেখি, এই ঋতুতে কি অপূর্ব রঙের খেলা, কি অপরূপ রঙিন ভুবন সাজায় প্রকৃতি। শরতে প্রাণবন্ত রূপ নিয়ে হেসে ওঠে গ্রাম বাংলার বিস্তৃত দিগন্ত।

শরতের নিজস্ব রূপবিন্যাসে আকাশ মাটি বন, বৃক্ষ নদীতরঙ্গ সবই যেন হয়ে উঠে অসাধারণ বর্ণময়। সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে, শুভ্র কাশের আঁচল উড়িয়ে, কণ্ঠে শেফালি ফুলের মালা দুলিয়ে শরৎ আসে প্রকৃতিজুড়ে। মাঠে মাঠে চিরসবুজ ধানক্ষেতের নয়নাভিরাম দৃশ্য, ধানের শীষে আগামী দিনের ফসলের মুকুল।

শরতের শান্ত ও স্নিগ্ধ এ রূপ মনে এক প্রশান্তি এনে দেয়। দিনের সোনালি রোদ্দুরের ঝিলমিলি আর রাতের ধবধবে জ্যোৎস্নার টানে মন হয়ে উঠে মাতোয়ারা।

আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ। ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু শরৎ। ভাদ্র আর আর্শ্বিন এ দুই মাস শরৎকাল। আষাঢ় মাস শেষ হয়ে শ্রাবণের কয়েদিন পার হলেই আকাশ আর বিলের অবস্থা পাল্টে যায়। আকাশে বেড়ে যায় মেঘের জড়াজড়ি, মৃদু বাতাসে কাঁপে বিলের পানি।

শরৎকে তাই বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আলোছায়ার খেলা দিনভর এইসব মিলেই তো শরৎ। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ। জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে পদসঞ্চার করে তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতের আগমন সত্যিই মধুর।

শরতের কাশফুলে মুগ্ধ হয় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কাশফুল নদী তীরে বনের প্রান্তে অপরূপ শোভা ছড়ায়। গাছে গাছে শিউলির মন-ভোলানো সুবাসে প্রকৃতি হয়ে উঠে মায়াময়। শরৎকালে কখনো কখনো বর্ষণ হয়, তবে বর্ষার মতো অবিরাম নয়। বরং শরতের বৃষ্টি মনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা যেন আনন্দ-বারি ! বৃষ্টিশেষে আবারো রোদ। দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ