আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং

বালিয়াডাঙ্গীয় ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পদ্ধতি অভিভাকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।

মো পজিরুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও:

“করোনা’য় আমার ঘরে আমার স্কুল, আমার স্কুলে আমার পরীক্ষা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাও’র বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এর অস্টম ও দশম শ্রেণিসহ সকল শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের এক নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্হ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ছাত্র- ছাত্রী ও অভিভাবকগণ পরীক্ষার সময়সূচী,উত্তরপত্র ,প্রশ্নপত্র ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করছেন বিদ্যালয় থেকে এবং পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র বিদ্যালয় অথবা জমা দিচ্ছেন ক্লাস্টার ভিত্তিক বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগনের কাছে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ছাত্র ছাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছানো ও সংগ্রহ করছেন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি ।

করোনাকালীন ছাত্র ছাত্রীদের লেখা পড়ায় মনোযোগী করে রাখা, পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করা এবং ঝড়ে পড়া রোধের নতুন কৌশল হিসেবে এ পদ্ধতিটি হাতে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান ড.টিএম মাহবুবর রহমান।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী দুলালী আকতার জানান,অনেক দিন ধরে নিয়মিত পড়তে বসা হয় না।অলস সময় কাটছিল আমার।এ পরীক্ষা গ্রহনের কারণে বাধ্য হচ্ছি পড়তে বসতে।

দশম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া জানায়,বাড়ীতে বসে পরীক্ষা দেওয়ার মজাটাই আলাদা।করোনাকালীন পরীক্ষা গ্রহনের এ পদ্ধতিটি সময়োপযোগী ও চমকপ্রদ ।বিশেষ করে পরীক্ষার দুই তিন দিন আগে প্রশ্নপত্র পাওয়া, একই বিষয়ের ৪টি সৃজনশীল ও ৪টি নৈব্যক্তিক অভীক্ষার প্রশ্নপত্রের মধ্যে দুইটি প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়া,সরাসরি অনলাইন এবং ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নকোড পেয়ে উত্তরপত্রে লেখা শুরু করা , নির্ধারিত সময় মোতাবেক উত্তরপত্র জমা দেওয়া, অভিভাবকগনের তত্বাবধানে নিজ বাড়িতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা,বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকগনের পরীক্ষা মনিটরিং, পরীক্ষা শুরুর দুয়েক দিন আগেই বিষয়ভিত্তিক অনলাইন লাইভ ক্লাসে অংশ গ্রহন, সবমিলিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে লেখা পড়া নিয়ে।

অন্যদিকে দশম শ্রেণির প্রথম স্হান অধিকারী ছাত্রী সাকলিম প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার প্রশ্ন প্রত্যেক চ্যাপ্টার থেকে সংগ্রহ করে এমনভাবে প্রনয়ণ করা হয়েছে; যার ফলে মূল বইয়ের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে উত্তর দেয়া বেশ কঠিন।এতে করে আগে প্রশ্ন পেলেও অনেক বেশি সময় ধরে পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।তবে পাঠ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণাও তৈরি হচ্ছে ।কেননা আটটি প্রশ্নপত্রের মধ্যে দুইটি প্রশ্নপত্রের উত্তর দিতে হচ্ছে।শুধু তাই নয় মুল বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা বারবার না পড়লে প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রাপ্তির ভয় থেকেই যাচ্ছে।
প্রথমে ধারণা ছিল আগেই প্রশ্ন পাওয়ায় সহজেই পরীক্ষা দেয়া যাবে,কিন্তু ঘটনাটা উল্টো। তবে এ রকম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলে যে কারো ভাল ফল প্রাপ্তীতে কোন টেনশন থাকবে না।

অভিভাবক অাশিরউদ্দীন জানান, পরীক্ষার পদ্ধতিটি আমার কাছে ভাল মনে হয়েছে। আমি এসএমএস মাধ্যমে পরীক্ষার কোড পাওয়ার পর নিজেই পরীক্ষার হল পরিদর্শকের ডিউটি পালন করছি।

সমিরউদ্দীন স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অভিভাবক তারেক পাশা মন্ডল জানান, করোনা’য় দীর্ঘ সময় স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ থাকায় তারা ঝিমিয়ে পরেছে।বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা মন্দের ভাল বলা যায়।এখন এ পরীক্ষার উছিলায় বাচ্চারা পড়ার টেবিলে থাকছে।ধন্যবাদ জানাচ্ছি এ উদ্যোগকে।

বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক দারাবউদ্দীন জানান,ছাত্র ছাত্রীরা স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ায় অমোনোযোগী হয়ে পড়েছিল। আমাদের প্রধান শিক্ষক যে কৌশল হাতে নিয়েছেন তাতে ইচ্ছা না থাকলেও ছাত্র ছাত্রীরা পড়তে বসতে বাধ্য হচ্ছে।এতে তারা উপকৃতও হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুলফিকার আলী জিল্লুর জানান,আমি দুপুর হতে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতা সংগ্রহ করছি।অভিভাবকগণ নিজ দায়িত্বে অাগ্রহভরে পরীক্ষার খাতা জমা দিচ্ছেন।এটি অভিভাবকগণ ভালভাবে নিয়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভার.) প্রধান শিক্ষক ড. টিএম মাহবুবর রহমান আরোও জানান, ছাত্র ছাত্রীদের অনেক অভিভাবক বলেছেন, ভীষণ চেস্টা করেও বাচ্চাদের নিয়মিত পড়তে বসাতে পারছি না।এ কথার প্রেক্ষিতেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্হানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকদের সংগে কথা বলে আমি এ উদ্যোগ গ্রহন করেছি।আমার বিশ্বাস এতে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
তিনি আরোও জানান পরীক্ষা গ্রহনের আরো নতুন পদ্ধতি গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের উপযোগি করে তোলা হবে।

তিনি আরো বলেন,এটি ” করোনায় আমার ঘরে আমার স্কুল,আমার স্কুলে আমার পরীক্ষা” নামে নাম করন করা হয়েছে।আমি বিশ্বাস করি এ পরীক্ষা পদ্ধতিটি ছাত্র ছাত্রীদের পাবলিক পরীক্ষায় ভাল ফলে ভুমিকা রাখবে।এবং করোনা’য় বিদ্যালয় বন্ধের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ গ্রহনের ঘাটতি পূরণে বড় রকমের সহায়ক হবে।

তবে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রাপ্যতা থাকা সত্বেও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এমপিওভুক্ত না হওয়ায় একাডেমিক কাজে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুল ইসলাম জানান,করোনা কালীন অনেক অভিভাবক ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন।আমাকে অনেকে বলেছেন।আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সংগে কথা বলে এ পরীক্ষা পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এটি একটি ভাল পদ্ধতি।এটির জন্য গোটা উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাল প্রভাব পরবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ ব্যপারে ঠাকুরগাও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম জানান,দীর্ঘ সময় করোনা’য় ক্লাস বন্ধ থাকার কারণে লেখা পড়ার ভাটা শুরু হয়েছিল।তখনই অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।আমিও অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি।বাড়ী বাড়ী পরীক্ষা নেওয়া, অভিভাবকদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে খাতা জমা করা এবং খাতা মূল্যায়ন করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের উপর ভাল প্রভাব ফেলবে।তিনি এ পরীক্ষার পদ্ধতিটিকে স্বাগত জানান।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরো সংবাদ